________________
সম্পাদকীয়
মনুষ্য জীবন যাপন তাে সবাই করছে। জন্মালাে, পড়াশুনাে করলাে, চাকরি করলাে, বিবাহ করলাে, পিতা হলাে, পিতামহ হলাে আর তারপরে মৃত্যু এলাে। জীবনের পরিণতিকি এটাই ? এইরকম জীবনযাপনের অর্থ কি ? কেন জন্মনিতে হয় ? জীবনে কি প্রাপ্ত করতে হয় ? মনুষ্যদেহ প্রাপ্তি হয়েছে, সেইজন্যে নিজে মানব-ধর্ম পালন করা উচিত। জীবন ধন্য হল তখনই বলা যায় যখন মানবতা পূর্ণ থাকে।
মানবতার পরিভাষা নিজেকেই তৈরী করতে হয়। যদি কেউ আমাকে দুঃখ দেয় তাহলে আমার ভাল লাগে না। সেইজন্য আমারও কাউকে দুঃখ দেওয়া উচিৎ নয়। এই সিদ্ধান্ত জীবনের প্রত্যেক ব্যবহারে যার ফিট (ক্রিয়াকারী) হয়ে গেছে, তার মধ্যে সম্পূর্ণ মানবতা এসে গেছে।
| মনুষ্যজন্ম তাে চার গতির জংশন (কেন্দ্রস্থল)। এখান থেকে চার গতিতে যাওয়ার অনুমতি আছে। কিন্তু যেরকম কারণ (কর্ম) করা হয়, সেইরকম গতিতে যেতে হয়। মানবধর্মে থাকলে আবার মনুষ্যজন্ম হবে। আর মানবধর্ম থেকে বিচ্যুত হলে জানােয়ার গতি পাবে। মানবধর্মের চেয়েও উঁচু সুপার হিউম্যান (দৈবীগুণ সম্পন্ন মানুষ) –এর ধর্ম পালন করলে আর সারা জীবন পরােপকারে ব্যতীত করলে দেবগতিতে জন্ম হয়। আর যদি মনুষ্য জীবনে আত্মজ্ঞানীর কাছে আত্মধর্ম প্রাপ্ত করা যায় তাে অন্তে মােক্ষগতি-পরমপদ প্রাপ্ত করা যায়।।
পরমপূজ্য দাদাশ্রী তাে মানুষ নিজের মানবধর্মতে প্রগতি করতে পারে এরকম সুন্দরবােধ সৎসঙ্গের মাধ্যমে প্রাপ্ত করিয়েছেন। এই সমস্তই এই প্রস্তুত সংকলনে অঙ্কিত হয়েছে। এই বােধ আজকের শিশু এবং যুবাদের কাছে যদি পৌঁছায় তাে জীবনের প্রারম্ভ থেকেই মানবধর্মে এসে এই মনুষ্যজন্মকে সার্থক করে তুলে ধন্য হয়ে যাবে এই প্রার্থনা।
– ডাঃ নীরুবেহন অমিন